দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা
দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইউটিউব ও ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। দুই শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযুক্ত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক আক্কাস আলীর শাস্তির দাবিতে রোববার সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে। শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বলেছেন, তাকে শিক্ষক পলিটিক্সের শিকার হতে হয়েছে। যৌন নিপীড়নের শিকার দুই শিক্ষার্থী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘শিক্ষক আক্কাস আলী কৌশলে আমাদের তিন ছাত্রীর থিসিসের দায়িত্ব নেন। তার তত্ত্বাবধানে আমরা তিন ছাত্রী গ্রুপ গঠন করে কাজ শুরু করি। এরপর বিভিন্ন সময় তিনি আমাদের দুই জনকে তার বাসায় ও ব্যক্তিগত চেম্বারে ডাকতেন এবং অসংযত আচরণ করতেন। পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি এই সুযোগ নিতেন। ফাইনাল পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়।’’

তারা আরো জানান, সম্প্রতি তাদের অভিযোগপত্র কে বা কারা ফেসবুকে পোস্ট করে দেয়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছ। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক নারীঘটিত ঘটনার পর সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় তা বেড়ে চলেছে। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

অভিযুক্ত সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার আক্কাস আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একই বিভাগের অন্য শিক্ষকের সঙ্গে বিভাগীয় প্রধান হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলা থাকায় তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে শিক্ষার্থী দিয়ে তাকে ফাঁসানো হযেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্সের শিকার হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনকে ফোন দিলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।