তারাগঞ্জে রাতের আঁধারে ৩টি মন্দিরের প্রতীমা ভাংচুর

তারাগঞ্জে রাতের আঁধারে ৩টি মন্দিরের প্রতীমা ভাংচুর
তারাগঞ্জে রাতের আঁধারে ৩টি মন্দিরের প্রতীমা ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার,তারাগঞ্জ ॥ রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় একই রাতে পৃথক তিনটি মন্দিরের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কিসামত মেনানগর বানিয়াপাড়া গ্রামে। গতকাল সোমবার পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, ইউএনওসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, বানিয়াপাড়া গ্রামে অবস্থিত সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি সরস্বতী পুজা করে মন্দিরে মূর্তি রেখে দেয়।

গত রবিবার সকালে ওই গ্রামের লোকজন দেখতে পারেন যে মূর্তি ভেঙ্গে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। একই ভাবে ওই গ্রামের ধৈর্য্য রায় ও ভূপতি রায়ের পৃথক পৃথক দুইটি পারিবারিক মন্দিরে রাখা শিব মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে বলে গ্রামের লোকজন দেখতে পায়।

ধৈর্য্য রায়ের স্ত্রী তেলো বালা (৪৮) জানায়, শনিবার রাতে মন্দিরে রাত ২ টা পর্যন্ত পূজা অর্চনা করে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মন্দিরের ভিতরে কে বা কারা মূর্তিটি ভেঙ্গে মাটিতে ফেলে রেখেছে।

দূর্গা মন্দিরের সভাপতি আশিষ কুমার রায় জানায়, একই রাতে তিনটি মন্দিরের মূর্তি ভেঙ্গে দেয়ায় বর্তমানে আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বর্তমানে ওই গ্রামে পুলিশ ও গ্রাম্য পুলিশদের পাহাড়ায় রাখা হয়েছে। মুর্তি ভেঙ্গে ফেলার খবর পেয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেছেন রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আবু মারুফ হোসেন,

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মারুফ আহম্মেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম, রংপুর জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অজয় প্রসাদ বর্মন, সম্পাদক ধীমান ভট্টাচার্য , থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিন্নাত আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ বাবুল। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মারুফ হোসেন জানান,ঘটনাস্থান পরিদর্শন করা হয়েছে, পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তারাগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিন্নাত আলী জানান,পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় (০৭ঃ৩০মিনিটে) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুনঃ