ঢাকার অপহরণ বদরগঞ্জে মিলল লাশ

ঢাকার অপহরণ বদরগঞ্জে মিলল লাশ
ঢাকার অপহরণ বদরগঞ্জে মিলল লাশ

বদরগঞ্জ(রংপুর)সংবাদদাতা
ঢাকা থেকে অপহৃত তোশারফ হোসেন পপি নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ আটদিন পর রংপুরের বদরগঞ্জে মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার সকালের দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শ্যামপুরের নন্দনপুর এলাকার একটি চাষ করা জমির গর্ত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত তোশারফ ঢাকায় আরবান হেল্থ কেয়ারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা যায়। ময়না তদন্তের জন্য লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

তোশারফ হোসেন পপির বাড়ি ঢাকার এনায়েতগঞ্জ লেনের হাজারীবাগ এলাকায়। এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল রবিউল হোসেন তার দুলাভাই সাইফুল ইসলাম ও পপির বাড়ির কাজের ছেলে বিপুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ সুত্রে জানা যায়, আরবান হেলথ কেয়ারের কর্মকর্তা তোশারফ হোসেন পপি রংপুরে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রবিউলের কথা মতো গৃহপরিচারিকার খোঁজে গত ১০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে রংপুরে আসেন।

পরদিন শহরের কামারপাড়াস্থ বাসস্ট্যান্ডে নামেন তিনি। সেখানে আগে থেকে ছিল রবিউল ইসলাম ও তার লোকজন। বাস থেকে নামার পর রবিউল ইসলাম তাকে নিয়ে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নন্দনপুর এলাকায় বড় বোন লাবনী আক্তারের বাড়িতে নিয়ে যান।

সেখানে নিয়ে পপিকে জানানো হয় তাকে অপহরণ করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এরপর টাকা দিতে দেরি হওয়ায় বিভিন্নস্থানে আটকে রেখে নির্যাতন চালান রবিউল ও তার লোকজন। যা পপি বিভিন্ন সময় ফোনে তার বোনকে অবগত করেন।

পপির স্বজনরা রংপুরে এসে পুলিশ কনস্টেবল রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদেরকেও হত্যার হুমকি দেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে গত বৃহস্পতিবার পপির ছোট বোন সাজিয়া আফরিন ডলি কোতয়ালী থানায় অপহরণ মামলা করেন।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে কনস্টেবল রবিউলসহ তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে গতকাল রবিবার বদরগঞ্জ এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে পপির লাশ উদ্ধার করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও মামলার আইও শহীদুল্লাহ কায়সার জানান, গত ১০ জানুয়ারি পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত কনস্টেবল রবিউল হোসেনের কাছে যান তোশারফ হোসেন।

রংপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিয়ে যান বদরগঞ্জের শ্যামপুরে তার দুলাভাইয়ের বাসায়। সেখানেই ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর তাকে হত্যা করে রবিউল ও তার লোকজন।

পরে লাশটি বস্তাবন্দী করে নন্দনপুরের একটি চাষ করা জমিতে গর্ত করে পুঁতে রাখে। পুলিশ গ্রেপ্তার করে কনস্টেবল রবিউল হোসেন তার দুলাভাই সাইফুল ইসলাম ও পপির বাড়ির কাজের ছেলে বিপুলকে।

রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি স্বীকার করে আসামিরা। উদ্ধার করা হয় তোশারফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসেট।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশের ওসি আব্দুর রশীদ জানান, রবিউলের দেওয়া তথ্য মতে পপির লাশ গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন: