ট্রাম্পের সম্মানে মে-র স্টেট ডিনারে ‘যাবেন না করবিন’

ট্রাম্পের সম্মানে মে-র স্টেট ডিনারে ‘যাবেন না করবিন’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে এলে তার সম্মানে দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভোজে যাবেন না বলে জানিয়েছেন লেবার পার্টির প্রধান জেরমি করবিন। রাষ্ট্রীয় সফরে চলতি বছরের জুনে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরের কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরসূচিতে তার সম্মানে দেওয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে-র একটি নৈশভোজও আছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ওই নৈশভোজের আমন্ত্রণ পেলেও তা ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা করবিন।

লেবার পার্টির এ শীর্ষ নেতা আরও বলেছেন, বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষী কথা বলা, জলবায়ু পরিবর্তন প্রত্যাখ্যানকারীদের সমর্থন, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সব চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় সফরে তাকে লাল গালিচা দেওয়া উচিত হবে না টেরিজা মে-র। মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির কট্টর সমালোচক করবিন সম্প্রতি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে বহিঃসমর্পণের বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনীতিক নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া উইকিলিকসের এ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের অভিযোগ এনেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

জামিনের শর্ত লংঘনের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে এখন অ্যাসাঞ্জের বিচার চলছে। করবিন বলেছেন, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে যে কোনো বৈঠককে স্বাগত জানালেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে মৈত্রতা টিকিয়ে রাখতে ‘রাষ্ট্রীয় সফরের আনুষ্ঠানিকতার’ প্রয়োজন ছিল না। জুনের ৩ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তরাজ্য সফরের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। নির্ধারিত সময়ে সফরটি অনুষ্ঠিত হলে, ট্রাম্প হবেন রানি এলিজাবেথের আমন্ত্রণধন্য তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশি নেতাদের সাধারণত বাকিংহাম প্যালেসে রাখা হলেও প্রাসাদটির সংস্কারকাজ চলায় ট্রাম্প সেখানে থাকছেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে নাগরিকদের একাংশেরও আপত্তি আছে। রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ না জানাতে ২০১৭ সালে একটি অনলাইন পিটিশন খোলা হয়েছিল। ওই পিটিশনে স্বাক্ষরও পড়েছিল প্রায় ১৯ লাখ ব্রিটিশ নাগরিকের।