ট্রাফিকের মারে রিক্সাচালক হাসপাতালে রিক্সা থানায়

ট্রাফিকের মারে রিক্সাচালক হাসপাতালে রিক্সা থানায়
ট্রাফিকের মারে রিক্সাচালক হাসপাতালে রিক্সা থানায়

নজরুল মৃধা রংপুর: রংপুরে এক ট্রাফিক রিক্সা চালককে পিটিয়ে অজ্ঞান করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র জাহাজ কোম্পানির মোড়ে। এই ঘটনায় স্থানীয় ও রিক্সা চালকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ট্রাফিকের মারে রিক্সাচালক হাসপাতালে রিক্সা থানায়
ট্রাফিকের মারে রিক্সাচালক হাসপাতালে রিক্সা থানায়

আহত রিক্সা চালক বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধিন রয়েছে। এদিকে কিস্তিতে নেয়া রিক্সাটি থানায় নিয়ে যাওয়ায় কিস্তি পরিশোধ ও রিক্সা কবে থানা থেকে পাওয়া যাবে এই চিন্তায় অস্থির আহত রিক্সা চালকের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর ১২ টার দিকে শহিদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক রিক্সা চালক জাহাজ কোম্পানির মোড় দিয়ে যাচ্ছিল। ওই সময় ওই এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা এক ট্রাফিক রিক্সাচালক শহিদুলের কোমরে লাঠি দিয়ে প্রচন্ড জোড়ে আঘাত করেন।

এতে রিক্সা চালক সাথে সাথে জ্ঞান হারায়। পরে তাকে উদ্ধার করে রমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শহিদুল হাসপাতালের ৩য় তলায় সার্জারি ওয়ার্ডের ১৭ নং বেডে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

হাসপাতালে কথা হয় আহত রিক্সা চালক শহিদুলের সাথে। তিনি ব্যথার যন্ত্রানায় কাতর অবস্থায় বলেন কিছু বুঝে উঠার আগেই ওই ট্রাফিক আমার কোমর লক্ষ করে মারতে থাকে এতে আমি জ্ঞান হারাই। এর পর নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পাই। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

রিক্সাচালকের স্ত্রী রাশেদা বেগম জানানলেন, প্রায় ৫ বছর থেকে শহরের সাদাপুর এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে স্বামী ও এক সন্তানসহ বসবাস করছি। আমার স্বামী রিক্সাটি কিস্তিতে ক্রয় করেছে। প্রতিমাসে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। এখন আমার স্বামী হাসপাতালে। রিক্সাটিও থানায়। এ অবস্থায় কিভাবে সংসার চলবে এবং কিভাবে কিস্তি পরিশোধ করব এটা নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি।

প্রতিবেশি মর্তুজা বলেন, শহিদুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর হলেও সে দীর্ঘদিন থেকে রংপুরে থেকে রিক্সা চালাচ্ছে। পুলিশ মানুষকে সেবা দিবে। এখানে হয়েছে ঠিক উল্টোটা। এ ধরনের ঘটনা মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার হবে। আগামীতে যাতে এ ধরণের ঘটনা না ঘটে এ জন্য তিনি ট্রাফিক বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন।

প্রত্যক্ষদশি হামিদুলসহ অনেকেই জানালেন, রিক্সাচালককে ওইভাবে না পিটিয়ে যানজট নিরসন করা যেত। কিন্তু যানজট নিরসনের নামে রিক্সা চালককে যে ভাবে মারপিট করা হয়েছে তা মেনে নেয়ার মত নয়।
সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. সুকান্ত বলেন, রিক্সা চালক শহিদুল আশঙ্কা মুক্ত। কোমরে আঘাত লেগেছে। এটি দ্রুত সেরে যাবে।

কোতয়ালি থানার ওসি,আব্দুর রশিদ জানান, রিক্সাটি আমরা থানায় নিয়ে এসেছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশ দিবেন সেই মোতাবেক কাজ করা হবে।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বেলাল হোসেন জানান, ঘটনার সময় আমি ওই স্থানে ছিলাম না। তবে শুনেছি রিক্সা চালক খুব দুর্বল ছিল। তাই অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন সংশ্লিষ্ট ট্রাফিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কোন ট্রাফিক এমন কান্ড ঘটিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ট্রাফিকের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

আপনার মতামত লিখুনঃ