টানা বর্ষণে সাদুল্লাপুরে হাঁটু কাঁদায় কাঁচা রাস্তা ॥ চলাচলে সিমাহীন দুর্ভোগ

টানা বর্ষণে সাদুল্লাপুরে হাঁটু কাঁদায় কাঁচা রাস্তা ॥ চলাচলে সিমাহীন দুর্ভোগ

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) ঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বর্ষাকালে বৃষ্টির দেখা না মিললেও, শরতে এসে হাজির হয়েছে কালো মেঘের অবিরাম বৃষ্টি। আশ্বিনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দিন-রাত ঝড়ছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। অনাকাঙ্খিত টানা বর্ষণের কারনে সাদুল্লাপুর উপজেলার কাঁচা রাস্তাগুলো হাটু কাঁদায় পরিনত হয়েছে। ফলে মানুষদের চলাচলে সিমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলায় গত একসপ্তাহ ধরে অবিরত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। অবিরত বৃষ্টির কারণে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থা দেখা দিয়েছে।

দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় জেলার অন্যান্যা উপজেলার কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণ হলেও, অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে জামালপুর ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তাগুলো। প্রতিবছরের ন্যায় এবারের চলামান বৃষ্টিপাতে হাটু কাঁদায় পরিনত হয়েছে। যা একদমই চলাচলের অনুপযোগি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডলের বাড়ি সংলগ্ন মোংলাবন্দর থেকে উত্তর দিকে মুনছুর আলীর বাড়ি হয়ে হামিদ মন্ডলের ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা গ্রামীণ রাস্তা বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে কিছু ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে শত শত গহিন গর্ত দেখা দিয়েছে। সেই সাথে অতিরিক্ত কাঁদার সৃষ্টি হওয়ায় মানুষদের মরণ ফাঁদে উপনিত হয়েছে। ছোট খাটো যানবাহ চলাচলে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। সেই সাথে শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন কি পায়ে হাঁটাচলাও দুস্কর হয়ে পড়েছে। যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার যায় না।

এছাড়াও বড় জামালপুর চৌধুরি বাজারের পশ্চিম গেইট থেকে জামালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে রজিবনগর দিয়ে শ্রীকলা মাদ্রাসা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটিতে একটু বৃষ্টি হলেই কাঁদার ঢেউ বইতে থাকে। এই এলাকার কয়েক গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চলাচলে সিমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।

জানা গেছে, জামালপুর ইউনিয়নের বড় জামালপুর গ্রামে একই স্থানে ৪ টি স্কুল কলেজ, ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ মাজার, ক্লিনিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের একটি মাত্র প্রধান রাস্তা এটি। সেই রাস্তাটির এমন করুন দশা যা বলা বাহুল্য। একটু বৃষ্টি হলে নেমে আসে দূর্বিসহ জীবনযাপন। শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে বই ব্যাগসহ ভিজতে দেখা যায়। সাধারণ জনগণ, সাইকেল মোটরবাইক ও অটোভ্যানে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল হোসনা মীম বলে, আমি স্থানীয় খোর্দ্দ রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ি। কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে রাস্তায় অতিরিক্ত কাঁদা হয়েছে। তাই স্কুলে যেতে মন চায় না।
ভুক্তভোগি শামীম মিয়া জানান, ওই রাস্তায় কাঁদাপানিতে চলতে গিয়ে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছি। যা চলাচলের কোনই পরিবেশ নেই। এ রাস্তাটি পাকাকরণে দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জামালপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ফকির বলেন, আমাদের সরকার উন্নয়নশীল সরকার দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জামালপুরে ৭/৮টি প্রতিষ্ঠানসহ একটি বাজার আছে। কিছু অসাধু স্বার্থপর কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধির উদাসীনতার কারনে জনগণকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডল বলেন, এ পরিষদের আওতাধীন কাঁচা সড়কগুলো পাকা করণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ