ঝুঁকির মুখে দেশের নিরাপত্তা

কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গা শিবিরগুলো যেন একেকটি অপরাধের আখড়া হয়ে উঠেছে। তাদের অপরাধের চৌহদ্দি এরইমধ্যে শিবির ছাড়িয়ে গোটা জেলায় বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির পাশাপাশি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে।

এখন তা আশপাশের জেলায়, এমনকি সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে। সংবাদমাধ্যেমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ১৩টি সুপারিশসহ একটি বিশেষ প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে। সদর দপ্তরও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।

জেলা পুলিশের প্রতিবেদনে যেসব বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় নানা অপরাধীচক্র রোহিঙ্গাদের ক্রমেই বেশি করে দলে টানছে। ইয়াবার পাশাপাশি অস্ত্রের চোরাচালানেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফলে ইয়াবা ও অস্ত্রের চোরাচালান ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কাছে তা বিক্রির ঘটনা দিন দিনই বাড়ছে। এতে কক্সবাজারের সামাজিক পরিবেশ ক্রমেই বেশি করে ঝুঁকির মুখে চলে আসছে। এই ইয়াবা ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দেশজুড়েও ছড়িয়ে পড়ছে। আরো ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে, দেশি-বিদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলো নানা ছদ্মবেশে ক্যাম্পগুলো থেকে সদস্য সংগ্রহ করছে।

কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন ক্যাম্পের একটি অংশে সক্রিয় রয়েছে, এমন তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপের সঙ্গে পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি) যোগাযোগ থাকার কথা জানা গেছে।

মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গেও রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পুলিশ চেষ্টা করেও তাদের ক্যাম্পের ভেতরে রাখতে পারছে না। রাতের আঁধারে ক্যাম্পের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অনেকে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে গিয়ে অপরাধ কর্মকা-ে জড়ায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা অনেক আগে থেকেই সতর্ক করে আসছেন, এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তারা ক্রমেই বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার পরও সরকার এ বিষয়ে এত গা-ছাড়া মনোভাব নিয়ে কেন চলছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। অনেক দিন থেকেই শুনে আসছি, লাখ খানেক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ঘরও তৈরি হয়ে আছে।

কিন্তু তাদের সেখানে নেওয়া হচ্ছে না কেন? যেসব বিদেশি স্থানান্তরের বিপক্ষে কথা বলে, তারা কি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমিয়ে দেবে? দেশ আমাদের, দেশের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদেরই বিবেচনা করতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে থাকা ৫৪ কিলোমিটার খোলা সীমান্তের বেশ কিছু পথ দিয়ে চলে ইয়াবা ও অস্ত্রের চোরাচালান।

এই সীমান্তটুকু স্থায়ীভাবে কাঁটাতার দিয়ে আটকানো এবং প্রহরা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সমুদ্রপথেও কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি আরো বাড়াতে হবে। আমরা কোনোভাবেই চাই না রোহিঙ্গাদের কারণে দেশের স্থিতিশীলতা বিঘিœত হোক। ক্যাম্পগুলোতে পুলিশ উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরো বাড়ানো হোক।