জামিনে মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া, প্যারোলের কথা দুরভিসন্ধিমূলক: রিজভী

জামিনে মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া, প্যারোলের কথা দুরভিসন্ধিমূলক: রিজভী
জামিনে মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া, প্যারোলের কথা দুরভিসন্ধিমূলক: রিজভী

এফএনএস: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ তাঁদের নেতারা দেশনেত্রীর প্যারোল নিয়ে অস্থির। দেশনেত্রী তো স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াতেই জামিনে মুক্তি পাবেন। ক্ষমতাসীনদের এই প্যারোলের কথা বলা দুরভিসন্ধিমূলক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের আচরণে স্পষ্ট হয়েছে, জনগণের নেত্রীকে জনগণ ও রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে বন্দি করা হয়েছে। এখন তাঁর জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে প্যারোলের কথা বলছেন তাঁরা। দেশনেত্রীর জীবন ও চিকিৎসা নিয়ে এটিও সরকারের রসিকতা। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ তাঁদের নেতারা দেশনেত্রীর প্যারোল নিয়ে অস্থির। দেশনেত্রী তো স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াতেই জামিনে মুক্তি পাবেন, তাহলে ক্ষমতাসীনদের এই প্যারোলের কথা বলাটা তো দুরভিসন্ধিমূলক। সরকারের গভীর ষড়যন্ত্র ও কুমতলব এখন পরিষ্কার। রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, প্যারোলের প্রশ্ন কেন আসছে? তিনি তো নির্দোষ। দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকার সম্পূর্ণ সাজানো মিথ্যা মামলায় তাঁকে জোর করে বিনা চিকিৎসায় তিলে তিলে হত্যার জন্য জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে, সেই টাকার বিষয়ে কোথাও তাঁর কোনো স্বাক্ষর নেই। সেই টাকা এখনো ব্যাংকে জমা আছে। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের লোকদের অর্থে পরিচালিত একটি টিভি চ্যানেল, মিথ্যাচারে নিয়োজিত কিছু সাংবাদিক ও কয়েকটি প্রপাগান্ডা ওয়েব পোর্টাল হলুদ সাংবাদিকতা করতে উঠেপড়ে লেগেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে তারা। খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমার বেতন প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, গত কয়েক দিন আগে আওয়ামী মিডিয়াগুলোতে রিপোর্ট করা হয়েছে, খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকে নাকি বেতন দেওয়া হচ্ছে না। আমরা খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, ফাতেমা বেগমের বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ম্যানেজ করে এই সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।

ফাতেমার পরিবারকে তার প্রাপ্য ছাড়াও অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। আর ফাতেমা আদালতের নির্দেশনায় দেশনেত্রীর সঙ্গে আছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার হাঁটাচলায় অসুবিধা হয়। তাঁর একজন সহকারী দরকার হয়। সেই বিবেচনায় ফাতেমা তাঁর সঙ্গে আছেন। এটাও এখন হিংসুক সরকারের সহ্য হচ্ছে না। তারা নিজেদের প্রপাগান্ডা মিডিয়ায় এই নিয়ে গল্প তৈরি করছে এবং সরকারি হুমকির মুখে নানানজনকে নানা কথা বলতে বাধ্য করছে। এ ব্যাপারে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আরো বলেন, আজ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, ফাতেমার মা বলেছেন যে তিনি মাসে মাসে টাকা পান এবং সেই টাকা তিনি নিজেই নিয়ে আসেন।

অথচ ফাতেমাকে নিয়ে সরকার জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কই, ওই মিডিয়াগুলো তো সুবর্ণচরের কবিরহাটে ধর্ষিতা নারীর আত্মীয়স্বজনদের সাক্ষাৎকার প্রচার করেনি। সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজাকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা কুপিয়েছিল। কই, সেই ছাত্রীর পরিবারের আর্তনাদ তো প্রচার করা হয়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মস্বীকৃত নারী নির্যাতকের দ্বারা অত্যাচারিত ছাত্রীদের আত্মীয়স্বজনদের সাক্ষাৎকার তো প্রচার করা হয়নি। দেশে নারী-শিশু নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করেছে।

বাসে, ট্রেনে, স্কুল-কলেজ, পরীক্ষা কেন্দ্র ও বাসাবাড়িতে নারী নির্যাতনের হিড়িক পড়েছে। এদের পরিবারের আত্মীয়স্বজনদের সাক্ষাৎকার তো প্রচার করা হয়নি। এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা, যা লিখতে গেলে দিস্তার পর দিস্তা কাগজ শেষ হয়ে যাবে। ‘সৎ সাহস থাকলে তারেক রহমান দেশে ফিরতেন’Ñ তথ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, যারা রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মতো ভোট করে তারা কতটুকু সাহসী তা জনগণই জানে। তারেক রহমান আইনগতভাবে জামিনে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন।

এখনও তিনি সুস্থ নন, চিকিৎসা চলমান রয়েছে। শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল ১/১১’র সরকার তারেক রহমানকে হত্যা করার জন্য অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। সেই নির্যাতনেই তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। এই ধরনের বর্বরোচিত নির্যাতন চালানোর পরও শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা প্রশমিত হয়নি, তারেক রহমান লন্ডনে থাকার পরও তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও সাজা দেওয়া হয়েছে। ন্যায়বিচার করার জন্য বিচারককে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এটিতেই সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, দেশে ন্যায়বিচার নয়, আওয়ামী বিচারই শেষ কথা।