চলন্ত বাসে ধর্ষণ-হত্যা: বিচারের আশায় পরিবার

চলন্ত বাসে ধর্ষণ-হত্যা: বিচারের আশায় পরিবার

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে চলন্ত বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর সারা দেশে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল মানুষ।

এ ঘটনার আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখনো দুজন আসামি  অধরা। মামলায় অভিযুক্ত ৯ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দিয়েছিল ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট।

চার্জশিট  দেয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচায় হয়নি। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটছে তানিয়ার স্বজনদের। বিষাদ ও শূন্যতা নিয়ে তানিয়ার বাবা গিয়াসউদ্দিন ঘুরছেন আদালতের দ্বারে দ্বারে।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ এ বিষয়ে জোড়াল ভূমিকা পালন করেছে। এ ঘটনায় স্বর্ণলতা বাসের চালক গাজীপুরের কাপাসিয়ার নূরুজ্জামান ওরফে নূর মিয়া ও হেলপার একই এলাকার লালন মিয়াকে ২০১৯ সালের ৬ মে পুলিশ আটক করে।

পাশাপাশি ওই বাসের পিরিজপুর ও কটিয়াদীর দুই লাইনম্যানসহ আরো তিন জনকে আটক করা হয়। ইতিমধ্যে চার্জশিটভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পলাতক তিনজনের মধ্যে বাসমালিক মো. আল মামুন চার্জশিট জমা দেয়ার কিছুদিন পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খলিলুর রহমান পাটুয়ারী  রাইজিংবিডিকে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। আশা করি, কেউ এ মামলা থেকে পার পাবেনা।

পলাতক দুই আসামির বিষয়ে তিনি বলেন, বোরহান এবং স্বর্ণলতা পরিবহনের এমডি পারভেজ সরকার পাভেল গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার বাসিন্দা।

তাদের ভিভিন্ন তথ্য আদালতে দাখিল করেছি। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত।

তানিয়ার বড় ভাই আখতারুজ্জামান বাদল বলেন, পুলিশ চার্জশিট জমা দেয়ার পর ৫ মাস চলে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্তও আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

আমরা আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন তারিখে আদালতে যাচ্ছি। তবে কোনোকিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। গত ডিসেম্বর মাস আদালত কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

নতুন বছরের ১ জানুয়ারি একটি তারিখ থাকলেও সেদিন আদালতে কোনো বিচারিক কার্যক্রম হয়নি। আবার ১৫ জানুয়ারি একটি তারিখ দেয়া হয়েছিল, সেদিনও কিছু হয়নি।

আখতারুজ্জামান বাদল বলেন, আমরা খুব অসহায়। আমার বোনটি পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার চাকা ঘুরিয়েছিল। তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারি না।

আমরা হয়তো বোনকে ফিরে পাব না, কিন্তু  বিচার প্রত‌্যাশা করি। ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে জড়িত যারা, আদালত যেন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়।

২০১৯ সালের ৬ মে রাতে ঢাকার মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী স্বর্ণলতা বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

তিনি কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মো. গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে। তানিয়া ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালের কল্যাণপুর শাখায় সেবিকা পদে কর্মরত ছিলেন।

বাজিতপুর উপজেলায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের বিলপাড় গজারিয়ায় ধর্ষণ ও হত‌্যার ঘটনা ঘটে।

এ সময় তানিয়া ঢাকা থেকে কটিয়াদী ও বাজিতপুরের পিরিজপুর হয়ে নিজ গ্রামে ফিরছিলেন। ঘটনার পরদিন ৭ মে তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় মামলা করেন।