ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ কেন আলাদা

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ কেন আলাদা
ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ কেন আলাদা

সাইক্লোন, টাইফুন, হারিকেন তিনটি আলাদা শব্দ হলেও আসলে এগুলো অঞ্চলভেদে ঘূর্ণিঝড়েরই ভিন্ন ভিন্ন নাম। সবগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি একই প্রক্রিয়ায়। অঞ্চলভেদে এদের নামে পরিবর্তন আসে।

অন্যান্য ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে আদতে তেমন কোনও পার্থক্য নেই ফণীর। তবে আঞ্চলিক পার্থক্যের কারণে একে সাইক্লোন নামে ডাকা হচ্ছে। অন্যান্য ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে এর পার্থক্য টানা হচ্ছে এর প্রচ-তার কারণে। পাশাপাশি অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময়ের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট কোনও ঝড় হিসেবে ফণী ভারতের মাটিতে আঘাত হেনেছে বলে একে স্বতন্ত্র বিবেচনা করা হচ্ছে।

» ভারতে ঘূর্ণিঝড় ফণি’র আঘাতে ১০ জনের মৃত্যু

» ফণী : আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে ৪ লাখ মানুষকে

আটলান্টিক মহাসাগর এলাকা তথা যুক্তরাষ্ট্রের আশপাশে ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ যখন ঘন্টায় ৭৪ মাইল এর বেশি হয়, তখন জনগণকে এর ভয়াবহতা বুঝাতে হারিকেন শব্দটি ব্যবহার করা হয়। মায়াদেবতা হুরাকান- যাকে বলা হত ঝড়ের দেবতা, তার নাম থেকেই হারিকেন শব্দটি এসেছে।

তেমনিভাবে, প্রশান্ত মহাসাগর এলাকা তথা চীন, জাপানের আশপাশে হারিকেন- এর পরিবর্তে টাইফুন শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তবে টর্নেডো কিছুটা আলাদা। এটাও বাতাসের ঘূর্ণি হলেও সেটাতে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। তবে টর্নেডো শুধুমাত্র স্থলভাগেই ঘটে। এদিকে ভারত মহাসাগরে উৎপন্ন ঝড়গুলোকে সাইক্লোন বলা হয়।

হারিকেন ও সাইক্লোন জল ও স্থল দুইভাগেই আঘাত আনতে পারে। ফণীও জল ও স্থলভাগে আঘাত হেনেছে। সে হিসেবে ফণীকে সাইক্লোন বলা যেতে পারে। শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ কাইক্লোস থেকে, যার অর্থ বৃত্ত বা চাকা। সপ্তাহখানে আগে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে সৃষ্টির পর থেকেই ফণীর ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

কয়েক ঘণ্টা পরপরই দেওয়া হচ্ছে সতর্কবার্তা। নেওয়া হয়েছে ব্যপক প্রস্তুতি। ভারতের পূর্ব উপকূলে এরআগেও বেশ কয়েক বার বড় ঝড় আঘাত এনেছে। তবে কোনটারই উৎপত্তিস্থল বঙ্গোপসাগর নয়। বঙ্গোপসাগরে পাঁচ থেকে ছয়টি ঘূর্ণিঝড় প্রতিবছরই সৃষ্টি হয়।

তবে ১৮৯১ সাল বঙ্গোপসাগরে ১৪টি বড় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলেও ভারতের মাটিতে আঘাত এবার দ্বিতীয়। এরআগে ১৯৫৬ সালে বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন হওয়া একটি ঘূর্ণিঝড় ভারতের মূল ভূখ-ে আঘাত হেনেছিল। সেখানে সৃষ্ট বাকি সবগুলো ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে আঘাত হানে।

এবার দ্বিতীয়বারের মতো বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ফণী আছড়ে পড়েছে ভারতের ওড়িশায়। গতকাল শুক্রবার ওড়িশার পুরিতে আঘাত হানার সময় এর গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। ফণীর আরেক স্বাতন্ত্র্য এর শক্তিমত্তায়।

এপ্রিল-মে মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সাধারণত দুর্বল প্রকৃতির হয়ে থাকে। ফণীর মতো শক্তিশালী হয় না। বাংলাদেশেও গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে ঝড়টির। মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

আরও পড়ুনঃ

» বাগেরহাটে ফণীর প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত

» ফণীর প্রভাবে বৃষ্টি , চার জেলার অন্তত ২৮টি গ্রাম প্লাবিত