গ্রামীণফোন ও রবির লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিটিআরসি

গ্রামীণফোন ও রবির লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিটিআরসি

বকেয়া পাওনা আদায়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। কারণ নানাভাবে উদ্যোগ নিয়েও ওই দুটি মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধার করতে পারছে না বিটিআরসি। সেজন্য প্রথমে ব্যান্ডউইথের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল।

পরে সেটা তুলে এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এখনো ওই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা টাকা দিচ্ছে না। এবার প্রতিষ্ঠান দুটির লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেজন্য তাদের শোকজ করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন মিলেছে।

খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে চিঠি পাঠানো হবে। বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ২৪ জুলাই বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে,অডিটের মাধ্যমে শনাক্ত করা গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি টাকা তারা পরিশোধ না করে টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করেছে।

ফলে একই আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না- তা ৩০ দিনের মধ্যে জানানোর জন্য শোকজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটরের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে বিটিআরসি গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথের ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে অপারেটর দুটির এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল।

তখন বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে অপারেটর দুটির ব্যান্ডউইথ প্রত্যাহার হয়ে যাবে (তারা ফিরে পাবে)। তাহলে টাকা কীভাবে আদায় হবে? আমাদের আইনে যা আছে, তা আমরা প্রয়োগ করব। আমাদের আইনে যে ব্যবস্থা দেয়া আছে, তা প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে।

এটুকু সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাকাটা পাবলিক ডিমান্ড। রাষ্ট্রীয় টাকা। এ টাকা মাফ করার কোনো সুযোগ নেই। এ টাকা অপারেটরগুলোর না দেয়ার কোনো সুযোগ নেই, তেমনি বিটিআরসিও মাফ করতে পারবে না।’ সূত্র আরো জানায়,‘প্রধানমন্ত্রী আইসিটি উপদেষ্টার নির্দেশে গ্রাহক ভোগান্তির কথা চিন্তা করে দুটি মোবাইল অপারেটরকে কোনো ধরনের এনওসি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

এমনকি নতুন কোনো প্যাকেজেরও অনুমোদন দেয়া হবে না। এরপরও যদি টাকা আদায় না হয়, তাহলে বিটিআরসি প্রশাসক নিয়োগের কথাও চিন্তা করতে পারে। এখন তো লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, সেই মর্মে চিঠি যাচ্ছে। এদিকে এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুক হক জানান, ‘আমরা লাইসেন্স বাতিলের শোকজ করার জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়েছি।

শিগগিরই তাদের কাছে চিঠি যাবে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, ‘বিটিআরসি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়ার সেটা নেবে। মন্ত্রণালয় অভিভাবক হিসেবে তাদের যে ধরনের সহযোগিতা দেয়া দরকার আমরা সেটা দেব।’

আপনার মতামত লিখুনঃ