গোবিন্দগঞ্জে পেপার মিলের বর্জ্যে , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত

গোবিন্দগঞ্জে পেপার মিলের বর্জ্যে , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত
গোবিন্দগঞ্জে পেপার মিলের বর্জ্যে , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে গড়ে উঠা পেপার মিলের বর্জ্যর কারণে পেপার মিলের পাশের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সেই সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা পড়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চাঁপড়ীগঞ্জ নামকস্থানে অবস্থিত রাজা পেপার মিল। প্রায় দেড় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এ পেপার মিলটি। মিল থেকে ৩শ’ গজ দুরেই চাঁপড়ীগঞ্জ এস.এম ফাজিল মাদ্রাসা ও চাঁপড়ীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এছাড়া কয়েকশ’ গজ দুরেই রয়েছে মোগলটুলি শাহ্ দেওয়ান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মোগলটুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চারটির পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি খাল। এ খালেই জমা হয় রাজা পেপার মিলের সকল বর্জ্য। খালে বর্জ্য ফেলার ফলে ওই খালের পানি দুষিত হয়ে নানা রোগ-জীবানু ছড়াচ্ছে। সেই সাথে মারাত্মক দুর্গন্ধে ওই এলাকায় টেকা দায় হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধের ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে দারুন সমস্যায় পড়তে হয়।

ফলে অনেক শিক্ষার্থী দুর্গন্ধের জ্বালায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে যায়। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়া বর্জ্যর ফলে খালে অসংখ্য মশা মাছির জন্ম নেয়। বিশেষ করে মাছির অত্যাচারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চারটির শিক্ষার্থীরা অতিষ্ট। দুপুরের টিফিনের সময় খাবার বের করে খাওয়া দুস্কর হয়ে পড়ে। আবার অনেকেই মাছির মধ্যেই খেয়ে প্রতিনিয়ত নানা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চারটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করেও কোন ফল পাননি। এ অবস্থায় স্থানীয়রাও বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাননি।

চাঁপড়ীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরে দিবা শান্তি জানালেন, মাছির অত্যাচারে শিক্ষার্থীরা টিফিন খেতে পারে না। সেই সাথে বজ্যর দুগন্ধে ক্লাস রুমে থাকা যায় না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ করেও এখনো কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছাঃ হাসি আক্তার ও মোঃ শিশির ইসলাম অভিযোগ করলেন, খালটিতে আগে পরিষ্কার পানি প্রবাহিত হতো তখন তারা খেলাধূলা শেষে খালের পানি দিয়ে হাত-মুখ পরিষ্কার করতেন। কিন্তু পেপার মিলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিলের বর্জ্যে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী সহ এলাকায় সব সময় দুর্গন্ধ সহ মশা- মাছির উপদ্রপ বেড়ে গেছে। টিফিনে মশা-মাছির জীবানু ছড়িয়ে পড়ায় প্রায়ই তারা পেটের পীড়া সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পেপার মিলের প্রডাকশন ম্যানেজার রাজুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সামান্য অসুবিধা হলেও পেপার মিলের কারণে এ এলাকার অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে করে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে ভালভাবে বাঁচতে পারছে। সামান্য এ অসুবিধা এলাকাবাসীকে মেনে নিতে হবে।
মিলের সুপার ভাইজার হাবিবুর রহমান বলেন, এমন অভিযোগ আসতেই পারে তাতে কি। তাদেরকে পরিবেশ অধিদপ্তরে গিয়ে অভিযোগ করতে বলুন। এলাকার লোকজন দু-চারদিন হই চই করে সবাই নিরব হয়ে যাবে। প্রশাসনের সকলকেই ম্যানেজ করেই প্রতিষ্ঠানটি চলছে।

উল্লেখিত বিষয়টি সম্পর্কে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন জানালেন, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান করা যাবেনা যাতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে বা শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়। তিনি অভিযোগ পেয়েছেন খুব শীঘ্রই ওই পেপার মিলে অভিযান চালানো হবে।