‘গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয় উষাকে’

‘‘স্বামীর সঙ্গে রাতে ঝগড়া হয়েছে- এ কথা মাকে বলার পরই হত্যা করা হয় জোয়ানা আকতার উষাকে। মূলত মায়ের কাছে নালিশ করার কারণে স্বামী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য মাহমুদ আলম গলায় গামছা লাগিয়ে ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে। এতে তিনি ক্ষান্ত হয়নি- উপরন্তু কণ্ঠনালীতে কামড় দিয়ে স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত করে।’’ নিহত উষার বড় ভাই জি এম সোহেল ইসলাম রোববার এমন অভিযোগ করেন।

উষার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে রোববার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালীর কালীদাসপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জি এম সোহেল ইসলাম বাদী হয়ে খানজাহান আলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উষার স্বামী খুলনার শিরোমনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত মাহমুদ আলম, শ্বশুর মো. জবেদ আলী ও শ্বাশুড়ি লুৎফুন্নেছা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ শনিবার ঘটনার পর মাহমুদ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে। অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

জি এম সোহেল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, চার মাস আগে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার জালালনগর গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে পুলিশ সদস্য মাহমুদ আলমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বোন উষার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার ও আসবাবসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হয়। তারপরও একটি মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিল তারা। এ নিয়ে বোনের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং নির্যাতন চলছিল। কিন্তু বোন কখনো তাদের এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে তুচ্ছ বিষয়ে মাহমুদ তার বোনের ওপর নির্যাতন করে। বিষয়টি শনিবার সকাল ৭টার দিকে বোন মাকে ফোন করে জানায়। জি এম সোহেল ইসলাম জানান, ফোন করার পর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে মাহমুদ আলম উষাকে আবার নির্যাতন করে। এক পর্যায় উষার গলায় গামছা লাগিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। এতে বোনের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়লে গলায় কামড় দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তাকে বিছানায় শুইয়ে রেখে শরীরে কাঁথা জড়িয়ে ঢেকে তড়িঘড়ি অফিসে চলে যায় মাহমুদ আলম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খানজাহান আলী থানার এসআই নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, গ্রেপ্তার এপিবিএন সদস্য মাহমুদ আলমকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। খুলনা নগরীর শিরোমনি বাদামতলা এলাকার ভাড়া বাসায় থাকত মাহমুদ আলম ও তার স্ত্রী উষা। পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী মাহমুদ আলম তার স্ত্রী জোয়ানা আকতার উষাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।