গঙ্গাচড়ায় ভূয়া শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

গঙ্গাচড়ায় ভূয়া শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাঘডহড়া চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন ভূয়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সভাপতি লিখিত অভিযোগ করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, বাঘডহড়া চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত করে ৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠাতা কমিটি।

ওই ৫জন শিক্ষক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসাকালীন সময়ের ৩ মাস পর সহকারি শিক্ষক দিলরুবা ইয়াছমিন ইস্তেফা দেয়। পরে ৪ জন শিক্ষকই বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর মাঝে পাঠদান দিয়ে আসছে।

৩য় ধাপে বিদ্যালয়টি সরকারি করণ করা হলে নিয়ম মোতাবেক সরকারি সুযোগ সুবিধার জন্য শিক্ষকদের তথ্য পাঠানোর সময় বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশাদুজ্জামান এলাকার একটি কুচক্রি মহলের মাধ্যমে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে সহকারি শিক্ষক সাহেবুল ইসলামের নামের স্থলে আনজুমানারা বেগম নামের এক মহিলা নাম সুকৌশলে বসিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে তথ্য পাঠায়।

পরবর্তীতে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে আনজুমানারার নাম জাতীয়করণ ভূক্ত হয়ে আসলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির নজরে বিষয়টি আসলে, তাৎক্ষনিক সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাহেবুলে স্থলে আনজুমানারার নাম আসার বিষয়টি অবগত করেন।

কিন্তু দায়িত্বে থাকা সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কোন কর্ণপাত না করে উল্টো আনজুমানারাকে সহকারি শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ দেয়।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সাহেবুল ইসলাম জানান, আমি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে অধ্যবদি পাঠদান করে আসছি।

ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উৎকোচের বিনিময়ে আমার নামের স্থলে ওই মহিলার নাম অর্ন্তভূক্ত করে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার গেজেটভূক্ত করে আনে। আমি নিরুপায় হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।

প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয় সরকারিকরণ হওয়ার পর সরকারি নিময় মোতাবেক সকল শিক্ষকদের তথ্য পাঠানোর জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে তালিকা পাঠাই।

কিন্তু সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশাদুজ্জামান অর্থের বিনিময়ে আনজুমানারা নামের এক মহিলা যিনি কখনও বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তার নাম সহকারি শিক্ষক সাহেবুলের নাম মুছে দিয়ে তার জায়গায় অর্šÍভূক্ত করে গেজেট আনে।

বিষয়টি আমি জানার পর সভাপতিকে জানিয়ে সভাপতির পরামর্শক্রমে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারি শিক্ষা অফিসারকে আনজুমানারার নাম সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ দিয়ে প্রকৃত শিক্ষক সাহেবুলের নাম অর্ন্তভূক্ত করে গেজেট আনার জন্য অবগত করি।

সহকারি শিক্ষা অফিসার আমার আবেদনে সারা না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন হয়রানীসহ ভয়ভীতি দেখিয়ে আনজুমানারাকে শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরসহ পাঠদানের ব্যবস্থা নিতে বলেন। আমি ও সভাপতি তার কথা না শুনে প্রকৃত শিক্ষক সাহেবুলের মাধ্যমে পাঠদান অব্যাহত রাখি।

এ কারণে ক্ষোভে ওই সহকারি শিক্ষা অফিসার আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে গেজেট বন্ধ করে রাখে। আমিও আদালতের আশ্রয় নেই।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আবু তালেব বলেন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমি ছিলাম। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে সাহেবুলকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আনজুমানারা নামে কোন মহিলাকে কখনও সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। বিদ্যালয় জাতীয়করণের পর শিক্ষকদের তথ্য পাঠানোর সময় সহকারি শিক্ষা অফিসার টাকার বিনিময়ে সাহেবুলকে বাদ দিয়ে আনজুমানারার নাম গেজেট করে আনে।

এমন চরম অন্যায় মেনে নিতে না পেরে আমি ওই সহকারি শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তিনি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আনজুমানারার নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত শিক্ষক সাহেবুলের গেজেট আনার ব্যবস্থা গ্রহণে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশাদুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আনজুমানারাকে বিদ্যালয় কমিটি ২০১২ সালে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় আর আমি এ উপজেলায় যোগদান করেছি ২০১৭ সালে।

বিদ্যালয় জাতীয়করণ হওয়ার পর শিক্ষকদের তথ্যর তালিকা প্রধান শিক্ষকই দিয়েছেন। ওই তালিকা উপজেলা ও জেলা যাচাই-বাচাই কমিটি যাচাই-বাচাই করার পর তা গেজেটের জন্য পাঠানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন

আপনার মতামত লিখুনঃ