খালেদা জিয়াকে নিয়ে ‘ডার্টি গেম’ বন্ধ করুন: রিজভী

খালেদা জিয়াকে নিয়ে ‘ডার্টি গেম’ বন্ধ করুন: রিজভী
খালেদা জিয়াকে নিয়ে ‘ডার্টি গেম’ বন্ধ করুন: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করেনি। তারা তাঁর জামিনে বাধা দিচ্ছে, চিকিৎসায় বাধা দিচ্ছে। সরকারের প্রতি এসব বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এসব করে সরকার তাঁর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাচ্ছে।

আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আগুন নিয়ে আর খেলবেন না। এই হিংসার আগুনে একদিন হয়তো আপনাদের নিজেদেরই সর্বনাশ হবে। বাংলাদেশের মানুষের প্রিয় নেত্রী, ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলছেন, এবার সেই ‘ডার্টি গেম’ বন্ধ করুন। জামিনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন।

আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার বন্ধ করুন, বলেন বিএনপি নেতা। রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের জন্য অকুতোভয় আপসহীন, সংগ্রামী, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করেনি বর্তমান জনধিক্কৃত মধ্যরাতের সরকার। তাঁর সুচিকিৎসা ও জামিনে বাধা প্রদানের পেছনে গভীর ভয়ংকর নীলনকশা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।

পুরো আইনি প্রক্রিয়া প্রতিহিংসাপরায়ণতা আর জিঘাংসায় ভরপুর। দেশনেত্রীর জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে রেখে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে। আদালতকে কুক্ষিগত করে রেখে খালেদা জিয়ার জামিনে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে রিজভী সরকারের উদ্দেশে আরো বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার বন্ধ করুন।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেন না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আদালতের স্বাধীনতাকে কারাগারে বন্দি করবেন না। অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। আপনাদের বর্বর মতলব জনগণের কাছে ফাঁস হয়ে গেছে। জনগণ আর আপনাদের রেহাই দেবেন না।

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, সরকার যদি বারবার দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দেয়, তবে রাজপথেই হবে ফয়সালা। অন্যায়কারী-জুলুমবাজরা কখনো বিজয়ী হতে পারে নাই। এই মধ্যরাতের সরকারও পারবে না। এখন বাংলাদেশের জনগণ একদিকে আর বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আরেকদিকে।

দিনের শেষে জনগণের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান কৃষি ব্যবস্থার প্রসঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আরো বলেন, দেশের কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এ দেশের প্রাণ কৃষকদের এখন নাভিশ্বাস উঠছে। ধান চাষ করে লোকসান দিয়ে তাদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে।

কৃষকের ঘরে ঘরে এখন হাহাকার। এই মিডনাইট ইলেকশনের সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত, বিদ্যুৎ-জ¦ালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধিসহ কৃষকদের প্রতি উদাসীনতার কারণে উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের। কৃষকরা প্রতি মণ ইরি-বোরো ধানে ২০০ টাকা করে লোকসান দিচ্ছে। বর্গাচাষিরা সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা বিঘাপ্রতি জমিতে লোকসান দিচ্ছে পাঁচ হাজার করে টাকা।

লোকসানের পর ব্যাংক ঋণ, এনজিওর কিস্তি, মহাজন ও সার-কীটনাশক সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের দেনা শোধ করা দায় হয়ে পড়েছে। নানা ঋণে জর্জরিত কৃষক ক্ষোভে, দুঃখে, কষ্টে ধানের দাম না পেয়ে পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছে, বিক্ষোভ করছে। সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ধানক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এই ভোটারহীন ভুয়া সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের এমন অভিনব প্রতিবাদ দেখে দেশের মানুষ আজ বেদনাহত, বলেন রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুনঃ