কাউনিয়ায় ২০টি চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি

কাউনিয়ায় ২০টি চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্চার,কাউনিয়া :

জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে গত বছরের তুলনায় এবছর শীত আসতে না আসতেই আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাবে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই হাড় কাপানো শীতের তীব্রতায় নিরুপায় হয়ে পড়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা পারের ২০টি চরাঞ্চলসহ উপজেলার ৩ লক্ষ্যধিক মানুষ। হাড় কাপান শীতের তীব্রতা দেখে দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার তিস্তা পারের পাঞ্জরভাংগা গ্রামের ছিন্নমূল মৃত মনছুর অলীর বৃদ্ধা স্ত্রী সিরাতন বেওয়ার (৭৪) বলেন ‘এবছর ক্যানবা এতো ঠান্ডা বাহে, এইদ্যান হইলে হামরাগুলা কী জারৎ (শীতে) মরি জামো বাহে ? হামার পাকে (দিকে) ওমরা (কর্তা ব্যক্তিরা) কায়ও (কেউ) চায়া দেখেনা, এ্যালা হামার গরম কাপর না পাইলে মরা ছাড়া আর কোন উপায় নাই ! অতিতের কষ্ট থেকে তার এ আর্তনাদ। শুধু পাঞ্জরভাংগা গ্রামেই এ চিত্র নয়।

তিস্তা পারের দারীদ্রক্লীষ্ট ঢুষমারাচর, গদাইচর, আরাজি হরিশ্বর চর, গোপিডাঙ্গাচর, প্রাণনাধচর, চর সাব্দী, চরগনাই, হরিচরণশর্মা, তালুকশাহবাজ, বিশ্বনাথচর, আজমখাঁচর, হায়বৎখাঁচর, টাপুরচর, চর নাজিরদহ একতাচর, ধুমগারাচর, পল্লীমারীরচরসহ উপজেলার গ্রামগুলোতে শিতকষ্টের একই চিত্র। রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে রংপুর বিভাগে আজ আবহাওয়ার সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিস্তা নদীর কোল ঘেষা রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৮৩টি গ্রামের ২০টি গ্রামই হলো তিস্তার চরাঞ্চল। আর এরই সাথে জড়িয়ে আছে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৩লক্ষ মানুষের জীবন প্রবাহ। এদের মধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ মানুষ দারীদ্র সীমার নীচে বসবাস করেন।

চরাঞ্চলের ওই সব মানুষের সুখ-দুঃখ গাঁথা কথা কেউ শোনার নেই। বিষয়টি নিয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ উলফৎ আরার বেগম জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ৩ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে যা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরন শুরু হয়েছে।