কমেও আবারো রংপুরে বাড়ল পেঁয়াজের দাম

কমেও আবারো রংপুরে বাড়ল পেঁয়াজের দাম

রবিউল ইসলাম দুখু:
পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে নেমে আসার পর রংপুরে আবারো বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ এখন সর্বোচ্চ ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। পেঁয়াজ আমদানি কিংবা বাজার নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা বাজারে কোন কাজই করছে না। এ কারনে ক্রেতা সাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রুমা, আলেয়া ও লিটু নামে কয়েকজন ক্রেতা জানান, রংপুর সিটি বাজারে পেঁয়াজের কোন ঘাটতি নেই। কতিপয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। এই ক্রেতারা আরো জানান, এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। সেই পেঁয়াজ এখন কি করে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়।

অবশ্যই ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে এখানে। যদি নিয়মিত জেলা প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশন থেকে বাজার মনিটরিং করা হতো তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই শাহসটি পেত না। গতকাল রোববার রংপুর সিটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একেক বিক্রেতা একেক রকম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।

দেশি পেঁয়াজ ১৬০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, এক সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজের দাম কম ছিল। হঠাৎ করে বেড়েছে। এখন পেঁয়াজ আবারো ২০০ টাকার কাছাকাছি চলে গেছে। আরেক বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, বাজারে একজন ব্যবসায়ী একেক দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। কারন হিসেবে জানান, এক সপ্তাহ আগে যারা পেঁয়াজ আমদানি করে রেখেছেন, তারা কম দামে বিক্রি করছেন। আর যারা ২ দিন আগে আমদানি করেন তারা বেশি দামে বিক্রি করেন।

এদিকে আড়তদাররা বলছেন, পেঁয়াজের সরবরাহ নেই, তাই আবার দাম বেড়েছে। তারা আরো জানান, যে হারে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার কথা সে হারে আসছে না। তাই দাম বাড়ছে। কয়েকজন ক্রেতা জানান, মায়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি করছেন।

যাদের কাছে দেশি পেঁয়াজ রয়েছে তারা প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। বাজারে এখন পেঁয়াজ পাতাও বিক্রি হচ্ছে বেশ চড়া দামে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পাতা পেঁয়াজ বাজারভেদে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও চার-পাঁচটি নিয়ে মুঠি করে বিক্রি করতে দেখা যায়। ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পাতা পেঁয়াজের একেকটি মুঠি।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিমানযোগে যে পেঁয়াজ এসেছে সেগুলো বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে আগের পেঁয়াজের দামও কমছে না। তবে আমদানি করা পেঁয়াজ আরো বেশি পরিমাণে আসার পর দাম কমবে বলে আশা করছেন তারা। তা ছাড়া বাজারে নতুন গাছ পেঁয়াজের সরবরাহও দিনদিন বাড়ছে।

দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর প্রচুর নতুন দেশী পেঁয়াজও বাজারে চলে আসবে। তখন দাম অবশ্যই কমবে। ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আফসানা পারভিন জানান, তাদের অফিস থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে ছাড় পাবে না।

আপনার মতামত লিখুনঃ