এক পা দিয়ে প্রতিবন্ধিত্ব হার মানিয়েছেন মিন্টু

এক পা দিয়ে প্রতিবন্ধিত্ব হার মানিয়েছেন মিন্টু
এক পা দিয়ে প্রতিবন্ধিত্ব হার মানিয়েছেন মিন্টু

মো: রেজাউল করিম রঞ্জু, নীলফামারী প্রতিনিধি:
প্রতিবন্ধি মিন্টু রায়। বয়স ৩২ বছর। এক পা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে কবুতর বিক্রি করে হার মানিয়েছে প্রতিবন্ধিত্ব। সে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কবুতর কিনে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে বাড়তি লাভটুকু দিয়ে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন।

নীলফামারী সদরের লক্ষীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরী মিয়া পাড়ার দীনেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে প্রতিবন্ধি মিন্ট ুরায় (৩২)। জন্মগত ভাবে তার ডান পা অচল। সে ওই পা দিয়ে হাটতে চলতে পারেনা। তার চলার সম্বল বাঁশের একটি লাঠি। কবুতর বিক্রির জন্য বাইসাইকেল নিয়ে চলেন বিভিন্ন হাট বাজারে। তিনি এক পা দিয়ে বাইসাইকেল চালান। আরেক পায়ের জন্য সাহায্যকারী হিসেবে নিয়েছেন বাঁশের লাঠি। তার বাড়ী নীলফামারী শহড় থেকে উত্তরে ৮ কিলোমিটার দুরে। সে বিয়ে করেন ১৫ বছর পূর্বে। তার দু’ই সন্তান রয়েছে। সে বড় অসহায়, রাতে ঘুমানোর ঠাঁই টুকু নেই নিজের। অন্যের ভিটেতে একটি কুঁড়ে ঘড় তুলেছেন, সে ঘড়েই স্ত্রী সন্তান নিয়ে রাত কাটান।

সে অভাবের তারনায় এক পা দিয়ে বিয়ের পর থেকে কবুতর বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। কবুতর বিক্রি করে লাভের টাকা দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটান। তার একটি ছেলে একটি মেয়ে, তাদের পড়াশুনার খরচ জোগানোর কোন বাড়তি উপায় নেই, তবুও খেয়ে না খেয়ে সন্তান দুটিকে পড়াশুনা করাচ্ছেন ৪র্থ ও ৭ম শ্রেণীতে।

এ বিষয়ে প্রতিবন্ধি মিন্টু রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার অভাবের সংসার, চলতে না পারলেও পেটের যন্ত্রনায় এক পা দিয়ে ছুটতে হয় কবুতর বেচাকেনায়। আমি গ্রামে ঘুড়ে ঘুড়ে মানুষের বাড়ী থেকে কবুতর কিনে সেই কবুতর হাটে নিয়ে বিক্রি করে যে টাকা লাভ হয় তা দিয়ে কোনো রকমে আমার সংসার চলে। প্রতিদিন আমার দেড়’শ থেকে দুই’শ টাকা লাভ হয়। সে বলেন আমি শুধু প্রতিবন্ধি ভাতা পাই, এটা দিয়ে আমার সংসার চালানো ও সন্তানের লেখাপড়া খরচ জোগানো কষ্ট হয়েছে।

ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি প্রতিবিন্ধি ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তবে তার জন্য আমি আরো অন্য উপায় বাহির করার চেষ্টা করছি, তার পরিবারটি সচ্ছল ভাবে চালানোর জন্য।

আপনার মতামত লিখুনঃ