ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

এবার ইরানের সবচেয়ে বড় ও লাভজনক পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ ‘পার্সিয়ান গালফ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি (পিজিপিআইসি)’ এর ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রিভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এ নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের পর থেকে তেহরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ রেখেছে। আর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজছে ইউরোপীয় দেশগুলো।

গত শুক্রবার। এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’কে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার দায়ে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পকে নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় একইসঙ্গে আরো ৩৯টি সহযোগী কোম্পানিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনে এগুলোকে ইরানের ‘বিদেশ-ভিত্তিক বিক্রয় এজেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পিজিপিআইসি বা এর সহযোগী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন বলেছেন, আইআরজিসি’কে আর্থিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দানকারী সব কোম্পানি ও হোল্ডিং গ্রুপকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। পার্সিয়ান গালফ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ-এ ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যালের ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয়ে থাকে। দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল রফতানির ৫০ ভাগই এখান থেকে হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ৬ শক্তিধর দেশ। ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য,ফ্রান্স,রাশিয়া,চীন (পি-ফাইভ) ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান। বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়।

পূর্বসূরী ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে হতাশা জানিয়ে ৮ মে চুক্তিটি থেকে আংশিক সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরানও। চিঠিতে বলা হয়েছে, পরমাণু সমঝোতা বা জেসিপিওএ’র কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ স্থগিত রাখবে তেহরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ভারী পানি মজুদ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো ইরান আর মানবে না।

আপনার মতামত লিখুনঃ