ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী বহিষ্কারে প্রস্তাব পাস

ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী বহিষ্কারে প্রস্তাব পাস
ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী বহিষ্কারে প্রস্তাব পাস

ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীসহ বিদেশি সেনা প্রত্যাহার চায় সে দেশের সরকার।

রোববার ইরাকের পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশনে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা ও বিবিসি।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন হামলায় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার দুই দিনের মাথায় এ প্রস্তাব পাস করলো ইরাকের পার্লামেন্ট।

ইরাকে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে আছেন উপদেষ্টা হিসেবে।

বাগদাদে পার্লামেন্টের অধিবেশনে আনীত প্রস্তাবে ইরাকী এমপিরা সে দেশ থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কোনো কারণেই যেন বিদেশি সৈন্যরা ইরাকের আকাশ, স্থল এবং জলসীমা ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানানো হয় ঐ প্রস্তাবে।

তবে পার্লামেন্টে ওই প্রস্তাব পাস হলেও সে দেশে বিদেশি সেনা অবস্থানের বিষয়ে যে চুক্তি রয়েছে তা বাতিল করার জন্য নতুন করে চুক্তি করতে হবে ইরাককে।

পার্লামেন্টে ওই প্রস্তাব পাসের আগে ইরাকের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদিও বিদশি সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বাইরের নানা বাধা সত্ত্বেও নৈতিকতা ও বাস্তবতার দিক থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করাই হবে ইরাকের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত।

এদিকে ইরাকি নিরাপত্তা কর্মীদের মার্কিন ঘাঁটি থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে ইরাকের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ।

এতে স্থানীয় সময় রোববার বিকেল পাঁচটা থেকে ইরাকি নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ভোরে বাগদাদ বিমানবন্দর এলাকায় হামলা চালিয়ে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিসহ তার ১০ সহযোগীকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরাক-ইরানসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিনবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, সোলাইমানিকে হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেবে তারা।

এ হত্যার নিন্দা করে ইরানের পক্ষ থেকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিহত কাসেম সোলাইমানিকে ইরানের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করা হতো। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর তাঁকেই সবচেয়ে ক্ষমতাধর ভাবা হতো।