ইতিহাসে প্রতিদিন আজ (মঙ্গলবার) ২০ আগস্ট’২০১৯

মওলানা তর্কবাগীশের মৃত্যু
স্বাধিকার আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ ১৯৮৬ সালের এই দিনে ইন্তেকাল করেন। এ দেশের গণতান্ত্রিক ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা তিনি । সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে আপোসহীন সংগ্রামী ।

অন্যদিকে শিরাজীর স্মৃতি, সমকালীন জীবনবোধ, সত্যার্থ প্রকাশের সত্যার্থ ইসলামের ছিন্নযুগের পৃষ্ঠা সত্যার্থ ভ্রমণী, শেষ প্রেরিত নবী, স্মৃতির সৈকতে আমি গ্রন্থগুলো লেখনীর জগতে তাকে অমরত্ব দিয়েছে। তার মূল পরিচয় আপোসহীন রাজনীতিক।

সিরাজগঞ্জের এক খান্দানি পীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও তিনি ছিলেন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বর তার জন্ম। তর্কবাগীশ ১৯২০ সালে স্থানীয়
ডায়মন্ড জুবলি ইংরেজি স্কুলে এন্ট্রান্স ক্লাসে অধ্যয়নকালেই অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে পাঠ বিরতি দেন ।
সভা-সমিতি করে কংগ্রেসের পক্ষে জনমত গঠনে উঠে পড়ে লাগেন। গ্রেফতার হন । ওই বয়সেই তার মুক্তির জন্যে জনতার বিশাল মিছিল হয় । পুলিশের গুলিতে মিছিলের ৭ জন মারা যায়। ৬ মাস কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর আরবি শিক্ষার জন্যে চলে যান ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় । সেখান থেকে লাহোরে ।

হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্ম এবং তর্কশাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন। লাহোরে তর্ক প্রতিযোগিতায় তর্কবাগীশ খেতাব পান। ১৯২৬ সালে লাহোর থেকে আসেন কলকাতায় । আঞ্জুমানে ওয়াদিনের পক্ষ থেকে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রচারে নামেন জমিদার ও মহাজনি শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে থাকেন।

শহীদ সোহরাওয়াদীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন নিখিল বঙ্গ রায়ত-খাতক সমিতি । তার প্রস্তাবের আলোকে বঙ্গীয় বিধান সভায় ঋণ সালিশি বোর্ড আইন হয়। তর্কবাগীশ ১৯৩৬ সালে যোগ দেন মুসলিম লীগে । মুসলিম লীগের কৃষক ফ্রন্টের প্রধান হন তিনি, ১৯৪৬ সালে হন বঙ্গীয় বিধান সভার সদস্য। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ৫৩র ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হন।

মুক্তির পর যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ‘৫৪ তে যুক্তফ্রন্ট পূর্ববঙ্গ থেকে পরিষদের সদস্য ও ৫৫ তে আওয়ামী লীগ থেকে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে হাউস উত্তপ্ত করে দিতেন তিনি। ৫৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নিযুক্ত হন। ১৯৬৭ পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। ৬৭ তে আ’লীগের একাংশের এডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

’৬৯-এ শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আলীগে প্রত্যাবর্তন করেন। ’৭০ সালে আ’লীগ প্রার্থী হিসেবে গণপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ’৭১-এ মুজিবনগর গমন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৬ সালে তিনি গঠন করেছিলেন গণআজাদী লীগ। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ৮৩ তে তার নেপথ্য ভূমিকায় আলীগ, সিপিবি, ন্যাপ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ইত্যাদি নিয়ে গঠিত হয়েছিলো ১৫ দলীয় জোট ।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত
আজ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাত দিবস। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১’র ২০ আগস্ট পাকিস্তান থেকে একটি জঙ্গি বিমান ছিনিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্যে রওয়ানা দেন। কিন্তু আকাশপথে দুর্ঘটনায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

পাকিস্তান প্রচারযন্ত্র দিনের পর দিন বাংলার এই বীর সন্তানকে বিশ্বাসঘাতক বলে প্রচার চালায় । মতিউরের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকায়। ম্যাট্রিক পাসের পর রিসালপুর পিএএফ কলেজ থেকে ১৯৬২ তে কমিশন লাভ এবং জেনারেল ডিউটি পাইলট নিযুক্ত হন। ৬৩ তে হন জেট পাইলট। ‘৬৫ তে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পেশোয়ারে কর্মরত ছিলেন ফ্লাইং অফিসার হিসেবে, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে মুক্তিযুদ্ধের সময় অধিষ্ঠিত হন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে।

১৯৭১ এর ফেব্রুয়ারিতে স্বাধীনতা আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট হন। ছুটি কাটিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মস্থলে গিয়ে বিমান ছিনিয়ে এনে মুক্তিবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন। পরিকল্পনা মতো পাকিস্তান বিমান বাহিনীর টি-৩৩ বিমানটি নিয়ে রওয়ানাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলো না।

১৯১৪ সালের এই দিনে জার্মানী বাহিনী বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস দখল করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানী প্রথম এই শহরটি দখল করে। জার্মানী ১৯১৪ সালের ৪ঠা আগস্ট থেকে বেলজিয়ামের দুর্ভেদ্য সামরিক ঘাটি বলে খ্যাত ‘লিজ’ শহরে হামলা চালানো শুরু করে এবং ২০শে আগস্ট ব্রাসেলসের রাজধানী দখল করে।

১৯৬৮ সালের এই দিনে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন ওয়ারশ জোটের বাহিনী চেকশ্লোভাকিয়ার রাজধানী প্রাগে প্রবেশ করে এবং সেখানে আবারও কমিউনিষ্ট শাসন প্রতিষ্ঠা করে। চেকশ্লোভাকিয়ার মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিত আলেক্সান্ডার দোভচেক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিউনিষ্ট শাসন ব্যবস্থার প্রতি সেদেশের জনগণের বিরুপ মনোভাবের বিষয়টি বুঝতে পেরে জনগণের উপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা হ্রাস এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনতা প্রদান করেন। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতারা তার এ পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ওয়ারস বাহিনী প্রাগ দখল করার পর চেকশ্লোভাকিয়ার প্রধামন্ত্রী পদচ্যুত হন। এরপর সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে পড়ার পরচেকশ্লোভাকিয়া চেক প্রজাতন্ত্র ও শ্লোভাকিয়া এই দুই অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

১৯৯৮ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও সুদানে দুরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ হামলায় মোট ৫৩ জন নিহত হয়েছিল। ওয়াশিংটন দাবী করে কেনিয়া ও তানজানিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় জড়িতদের সাথে সুদান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ছিল।

এছাড়া ওয়াশিংটন রাসায়নিক পদার্থ তৈরীর অভিযোগ তুলে সুদানের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষধ নির্মাণ কারখানায়ও হামলা চালিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। অথচ যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ তুলে ঐ হামলা চালিয়েছিল তা আজও প্রমাণ করতে পারে নি। সে সময় কোন কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছিলেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের নৈতিক কেলেঙ্কারীর ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়াই ছিল আফগানিস্তান ও সুদানে হামলার উদ্দেশ্য।

১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধার অন্যতম ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন। ১৯৪১ সালের ২৯শে নভেম্বর ঢাকায় তার জন্ম। তিনি ছিলেন অসম সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী এক সামরিক অফিসার।

তার অন্তরে ছিল তীব্র অগ্নির মত দেশ প্রেম। মতিউরের প্রাথমিক পড়ালেখা শুরু হয় পুরান ঢাকর কলেজিয়েট স্কুলে, এরপর তিনি ভর্তি হন পশ্চিম পাকিস্তানের বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে। জঙ্গী বিমান নিয়ে পশ্চিম পকিস্তান থেকে পালিয়ে আসার সময় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি মারা যান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আত্মদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বীর শ্রেষ্ঠ’ উপাধি দিয়ে তাকে ভূষিত করা হয়।

ইতিহাসের এই দিনে সংঘটিত আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে,

৬৩৬ খ্রীস্টাব্দে ইয়ারমুকের যুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ এর নেতৃত্বে মুসলমানরা ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করে।
১৯৬১ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানীর মধ্যে বার্লিন প্রাচীর তৈরীর কাজ শেষ হয়।
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ মৃত্যুবরণ করেন।

সারাগোসার যুদ্ধে অস্ট্রীয় বাহিনীর কাছে ফরাসি বাহিনী পরাজিত (১৭১০)
লর্ড ওয়েলেসলির ফরমান। মানত করে সদ্যজাত শিশুকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ (১৮০২)
রাজা রামমোহন রায়ের উদ্যোগে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠিত (১৮২৮)
নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী রোনাল্ড রস কর্তৃক ম্যালেরিয়ার জীবাণু আবিষ্কার (১৮৯৭)
দানবীর, সমাজসেবক, রাজনীতিক আনন্দমোহন বসুর মৃত্যু (১৯০৬)
জার্মান বাহিনীর ব্রাসেলস দখল (১৯১৪)
রুশ বিপ্লবী নেতা টুটস্কি নিহত (১৯৪০)
ভারতের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীর জন্য (১৯৪৪)
ফরাসি উপনিবেশ থেকে সেনেগালের স্বাধীনতা লাভ (১৯৬০)
পূর্ব-পশ্চিম জার্মানির মধ্যে বার্লিন প্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন (১৯৬১)
রুশ সৈন্যদের চেকোস্লোভাকিয়ায় অনুপ্রবেশ (১৯৬৮)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা (১৯৭০)
সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত এস্তোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা (১৯৯১)

আপনার মতামত লিখুনঃ