ইছামতী নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু

ইছামতী নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু
ইছামতী নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনায় আজ থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান। সকাল ১০টা থেকে শহরের পাওয়ার হাইজ পাড়া পুরাতন ব্রীজএলাকা থেকে শুরুহওয়া পানিউন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করে।

জেলাপ্রশাসানের নির্বাহীম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাছাড়াও বিপুলপরিমাণ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেয়। পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাবনা অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম অভিযান কার্যক্রম সমন্বয়করেন।

প্রায় তিনঘন্টাব্যাপী এ অভিযানে বড়বড় দ্বিতল এবং তিনতলা ভবনসহ ৮০টি অবকাঠামো ভেঙ্গে উদ্ধার করা হবে প্রায় ৫ একর সরকারী সম্পত্তি। যার অনুমানিক বাজারমুল্য প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা বলে জানান পানিউন্নয়ন বোর্ড কতৃপক্ষ।

এ সময়অবৈধ দখলদারের অনেকেই নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবী করে জোরপূর্বক উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানান। তবে, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই উচ্ছেদ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

উচ্ছেদের বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহামুদ জানায়, নিয়ম মেনে সঠিক ভাবে উচ্ছেদ পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে ইছামতির ৩৩৪ জন তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদারসহ গোটা জেলায় প্রায় সহস্রাধিক অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে দুই কিলোমিটার এলাকার নদীর অবৈধ জায়গা দখল মুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক জানান, এই কাজের জন্য প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা ব্যায় হবে। পর্য়ায় ক্রমে পৌর এলাকার ৮ কিলোমিটার নদী ও ১১ টি কালভার্ট ব্রিজ ভাঙা হবে বলে জানান তিনি। উচ্ছেদ অভিযান সমাপ্ত হওয়ার পরে নদীর দুইপারে হাটার রাস্তাসহ ছোট ছোট পার্ক নির্মান করা হবে।

পানিউন্নয়ন বোর্ড এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা ও মন্ত্রণালয়ে নিয়ম অনুসারে এই নদী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাবনা বাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চাওয়া পাওয়া এই নদী দখল ও দূষন মুক্ত করার। সরকার সারাদেশব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করছে। নদীর দখল এবং দূষন মুক্ত করে পাবনা শহরকে সুন্দর্য বর্ধন করা হবে। কাউকে জোড় পূর্বক বা অন্যায় করে কোন কাজ করা হচ্ছে না। এই কাজে পাবনার আপামোর জনগন সহযোগিতা করছে।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার সাথে সাথে উচ্ছেদ এলাকায় কান্না এবং হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই নিজ দায়িত্বে তাদের বাড়ি ঘর সরিয়ে নিতে দেখা যায়। উচ্ছে হওয়া জায়গার নিজেদের দাবিতে তারা বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে ছিলাম সময় বৃদ্ধির জন্য। আর আমাদের যাদের বৈধ কাগজ রয়েছে তাকে দেখিয়েছি কিন্তু তিনি আমাদের কোন কথা মানছেন না। আমরা সরকার কাছে এবং প্রশাসনের কাছে সময় এবং সঠিক নিয়মে নদীর দুইপারের অবৈধ উচ্ছে করার দাবি করছি। আমরা মনে করছি নদী না মেপে এই উচ্ছেদ অভিযান করা হচ্ছে। যা সঠিক নিয়ম মেনে করা হচ্ছে না।