আর বক্তব্যের মধ্যে থাকতে চাই না, আন্দোলন করতে চাই: ফখরুল

আর বক্তব্যের মধ্যে থাকতে চাই না, আন্দোলন করতে চাই: ফখরুল
আর বক্তব্যের মধ্যে থাকতে চাই না, আন্দোলন করতে চাই: ফখরুল

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই, লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বড় কিছু পেতে হলে সংগ্রামের মধ্যেই পেতে হয়। আমাদের হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের বুঝতে হবে, আমরা অত্যন্ত কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছি।

আমরা আশা করি, শক্তিশালী সংগঠনের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, আমরা এখন আর বক্তব্যের মধ্যে থাকতে চাই না। কিছু কাজ করতে চাই। সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করে ডায়নামিক সংগঠনে পরিণত করে দেশনেত্রীর মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি এবং আমাদের নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য আমরা আন্দোলন করতে চাই।

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সব মামলা প্রত্যাহার এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তির দাবিতে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার সুচিন্তিতভাবে অত্যন্ত গুছিয়ে একদলীয় শাসনের দিকে যাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা সেইভাবে প্রতিরোধ করতে পারিনি। কারণ, আওয়ামী লীগ সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুঃশাসনের মধ্যে নিয়ে নজিরবিহীন নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। আপনাদের বুঝতে হবে, ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক লড়াই সব সময় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সময় খুব কঠিন সময়, এই সংগ্রামও খুব কঠিন। এই সংগ্রামকে হাসি-খেলার মধ্য দিয়ে উত্তরণ সম্ভব নয়। আজকে আমরা যদি আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকে তাকাই দেখবেন, সব জায়গায় কর্তৃত্ববাদ ঝুঁকে বসে আছে। গণতন্ত্র পিছিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তাঁরা সেইভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান আর ২০১৯ একসময় নয়।

এই কথাটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এবং মাথায় রেখেই আমাদের পরবর্তী সময়ের রণকৌশল নির্ধারণ করতে হবে। আর এর জন্য ভাবতে হবে, পড়তে হবে, আন্তর্জাতিক বিশ্ব সম্পর্কে জানতে হবে। আমাদের চিন্তা করতে হবে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে কীভাবে আরো শক্তিশালী করা যায়।

যাতে বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে লড়াই করতে পারে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে দলের মহাসচিব আরো বলেন, খালেদা জিয়া এতটা অসুস্থ যে আমি বর্ণনা করতে পারব না। আমি নিজে গিয়েছি, দেখেছি তাঁকে। তিনি নিজে বিছানা থেকে উঠতে পারেন না, তাঁকে সাহায্য করতে হয়।

হাঁটতে পারেন না, হুইলচেয়ারে চলতে হয়। খেতে পারেন না। তাঁর শরীর একদম ভালো নেই। দেশের অর্থনীতি খাত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকারের এক মন্ত্রী বলেছেন, অত্যন্ত মার্জিতভাবে মধ্য আয়ের দেশের অর্থনীতিকে যদি ঠিক না করা যায়, তাহলে কোনো লাভ হবে না।

অর্থাৎ এটা এখনো মাধ্যম আয়ের দেশ হয়নি। অথচ সরকারের উন্নয়নের ঢোল বাজতেই আছে। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ বক্তব্য দেন।