আর অভিনয় করতে চান না সব্যসাচি

আর অভিনয় করতে চান না সব্যসাচি
আর অভিনয় করতে চান না সব্যসাচি

ভারতীয় বাংলা সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। ‘কাকাবাবু’ থেকে ‘ফেলুদা’ সব চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন কেড়েছেন তিনি। বাংলার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন হিন্দি, তামিল ভাষার সিনেমায়। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে অবসরে যেতে চান এই অভিনেতা। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে।

সংবাদমাধ্যমটিতে সব্যসাচী বলেন, ‘আমি আর অভিনয় করতে চাই না। এখন একটা ধুতি আর ফতুয়া পরে জঙ্গলে ঘুড়ে বেড়াতে চাই।’ দর্শক তো এখনো আপনাকে পর্দায় দেখতে চান? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘মানুষ তো অনেক কিছুই চায়। আমি তো চাঁদে যেতে চাই কিন্তু পাচ্ছি কি? মানুষ চাইলেই দিতে হবে তার তো কোনো মানে নেই।’

তাহলে কী সিনেমা থেকে অবসর নিতে চাইছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অভিনয় থেকে একেবারেই অবসরে যেতে চাই। আর মনের মতো কিছু পেলে ভেবে দেখব। অনেক দিন তো হলো। এবারে নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেয়া উচিত। বয়স হয়েছে— বুড়ো হয়ে জায়গা আঁকড়ে ধরে বসে থাকার কোনো মানে হয় না।’
অভিনয় ছাড়লে পরিচালনায় আসতে চান কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার মতো অল্প ধৈর্যের মানুষের দ্বারা পরিচালনা বা নির্দেশনা সম্ভব নয়। আমি খুব দ্রুত ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। একটা সময় চেষ্টা করেছিলাম। তবে হয়নি। আর চেষ্টাও করতে চাই না।’

১৯৫৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন সব্যসাচী। ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। হংসরাজ কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে দিল্লিতে এএমআই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৮৬ সালে মিঠু চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে গৌরব ও অর্জুন নামে দুই ছেলে রয়েছে।
১৯৯২ সালে অভিনয়ে নাম লেখান সব্যসাচী। ‘তেরো পার্বন’ টিভি সিরিয়ালের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ‘রুদ্রসেনের ডায়েরি’ টিভি সিরিয়ালে প্রথম গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে বাঙালি গোয়েন্দা চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় মুগ্ধ করে দর্শকদের।

তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে: সত্যজিৎ রায়ের ‘ফেলুদা’, সন্দীপ রায়ের ‘বাক্স রহস্য’। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘অন্তর্ধান’। এছাড়াও তার অভিনীত সিনেমা হলো: ‘কাকাবাবু হেরে গেলেন’, ‘তিনকাহন’, ‘হেমলক সোসাইটি’, ‘থানা থেকে আসছি’, ‘রয়েল বেঙ্গল রহস্য’, ‘ল্যাবরেটরি’, ‘গোরস্থানে সাবধান’, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ প্রভৃতি। অভিনয় ছাড়াও প্রকৃতি-পরিবেশের প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে। তিনি একজন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার।

আপনার মতামত লিখুনঃ