আমনের চারা সংকটে কুড়িগ্রামের কৃষক

আমনের চারা সংকটে কুড়িগ্রামের কৃষক

শ্যামল ভৌমিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ২০.০৮.১৯
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কুড়িগ্রামের কৃষকরা নতুন করে আমনের চারা লাগানো শুরু করেছে। তবে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চারা সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। কিছু কৃষক জেলার বাইরে থেকে বেশি মূল্যে চারা সংগ্রহ করে জমিতে লাগালেও অনেক কৃষক অর্থাভাবে জমিতে চারা লাগাতে পারছেন না।

এ অবস্থায় অনাবাদি পড়ে আছে হাজার হাজার হেক্টর জমি। তবে কৃষি বিভাগ চারা সংকটের কথা অস্বীকার করে পড়ে থাকা জমিতে আগাম রবি শস্য চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন এসব এলাকার কৃষকদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এবারের বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা আমন মৌসুমে চারা লাগানোর শেষ সময়ে এসে নতুন বীজতলা তৈরির চেষ্টা করলেও সময় স্বল্পতার কারনে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

তবে অনেক কৃষক চরা মূল্যে চারা সংগ্রহ করে রোপন করলেও উৎপাদন ব্যায় বাড়ার অশংকায় অনেকই পতিত করে রেখেছেন তাদের আবাদী জমি।

বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকরা জানান, এ অঞ্চলে আমন লাগানোর উৎকৃষ্ট সময় শ্রাবণ মাসের প্রথম দিকে। অথচ প্রলম্বিত বন্যার কারণে নি¤œাঞ্চলের কৃষকদের বীজতলা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভাদ্র মাসেও চারা রোপণ করতে পারছেন না তারা।

চারা সংকটের পাশাপাশি কৃত্রিম সেচে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সরকারী প্রনোদনার দিকে চেয়ে আছেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের সরদার পাড়া গ্রামের গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মকবুল হোসেন জানান, আমি প্রতিবছর তিন একর জমিতে আমানের আবাদ করি। সে মোতাবেক বীজতলা তৈরি করেছিলাম কিন্তু সে বীজতলা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নতুন করে বীজতলা তৈরি করেছি তা দিয়ে হয়তো এক একর জমিতে চারা লাগানো সম্ভব হবে বাকী দুই একর পড়ে থাককে। কিন্তু এই এক জমিতে সেচ দিয়ে চারা লাগাতে হবে। এরপর সার কীট নাশকতো আছে। এতেই অনেক খরচ পড়ে যাবে। তার উপর বেশি দামে চারে কিনে জমিতে লাগানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কেন না এসময় হাতে কোন টাকা পয়সা নেই।

একই এলাকার গিয়াস উদ্দিন ও ফারুক জানান, আমরা গরিব মানুষ। চারা কিনে আনার মতো কোন টাকা নেই। এজন্য জমি পড়ে আছে। যাদের টাকা পয়সা আছে তারা বেশি দামে বাইরের জেলা তেকে চারা কিনে এনে জমিতে লাগাচ্ছে। সরকার যদি আমাদের কোন সহযোগীতা না করে তাহলে বাঁচার কোন উপায় নাই।

নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনির পাড় গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান জানান, আমি ৪ একর জমিতে আমান লাগাই। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় বীজতলা সম্পুর্ণ রুপে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করেছি তাতে সব জমিতে লাগানো সম্ভব হবে না। কিন্তু আমন লাগানোর সময় পার হয়ে গেলেও এখন চারার বয়স না হওয়ায় লাগাতে পারিনি। বিলম্বে চারা লাগালে ফসন ভালো হবে না জেনেও লাগাতে হবে।

চারা সংকটের কথা অস্বীকার করে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসালণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় এ বছর প্রলম্বিত বন্যার কারনে নীচু অঞ্চলে আমন রোপন বিলম্বিত হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই কৃষকগণ নিজেরাই বীজতলা তৈরিসহ পার্শ্ববতী উপজেলা থেকে চারা সংগ্রহ করে আমন রোপন করছেন। আমন রোপন পুরোদমে চলছে।

এবারে আমাদের কুড়িগ্রাম জেলায় আমন আবাদের লক্ষমাত্রা ৯৫ হাজার হেক্টর জমি। আমরা সেটা অর্জন করতে পারবো। পাশাপাশি যেসব নীচু এলাকায় আমন রোপন করা সম্ভব হবে না এবং জমি পড়ে থাকবে সেসব এলাকার কৃষকদের আগাম রবি শস্য চাষাবাদ করার জন্য আমরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে চারা সংকটের কারনে কি পরিমান অনাবাদি জমি পড়ে আছে সে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।

জরুরি ভিত্তিতে সরকারী ভাবে আমন চারা কৃষকদের মাঝে সরবরাহের পাশাপাশি কৃষি প্রনোদনা প্রদান করা না হলে চলতি মৌসুমে জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন কৃষকরা।

আপনার মতামত লিখুনঃ