আবহাওয়া নিয়ে দুশ্চিতায় প্রার্থীরা

আবহাওয়া নিয়ে দুশ্চিতায় প্রার্থীরা

রবিউল ইসলাম দুখু:
রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন কাল শনিবার। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আজ আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে দুশ্চিন্তা রয়েছে। রংপুরের আবহাওয়া কয়েকদিন ধরে ভালো যাচ্ছে না। কখনো প্রখর রোদ, আবার কখনো মৌসুমি ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে।

একজন প্রার্থী জানান, কয়েক দিন আগে বৃষ্টিতে নাকাল অবস্থায় ছিলাম। আজ আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা আছি। অপর এক প্রার্থী জানান, বৃষ্টি থাকলে ভোটার উপস্থিতি কম থাকতে পারে। কয়েকজন ভোটারও বৃষ্টি নিয়ে শঙ্কার কথা জানান।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন জানান, বৃষ্টি ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। তবে ঝড়-বৃষ্টিতে যাতে ভোট গ্রহণ বা গণনা কার্যক্রম বিঘিœত না হয়, সে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এ ভোট দেবেন প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২ জন ভোটার।

নেয়া হয়েছে ৪ স্তরের নিরাপত্তা। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে প্রচারণা শেষ হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রার্থী ছয়জন । প্রার্থীরা হলেন, শাদ এরশাদ প্রতিক লাঙ্গল, বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান ধানের শীষ, গণফ্রন্টের প্রার্থী কাজী মো. শহিদুল্লাহ প্রতিক মাছ, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মন্ডল দলীয় প্রতিক দেয়াল ঘড়ি, এনএনপি শফিউল আলম দলীয় আম প্রতিক এবং এইচ এম এরশাদের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থ হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আসিফের মোটরগাড়ি (কার) প্রতিক ।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার জি এম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, ভোটগ্রহণের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে ভোট কেন্দ্রে যে কোনো বিশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমনের ঘোষণা দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। তিনি বলেন: ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনসহ (ইভিএম) নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনি সরঞ্জামগুলো প্রিজাইডিং অফিসারের নেতৃত্বে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্বাচনে কোনো ঝামেলা হবে না।

শুক্রবার প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালিসহ নির্বাচনী সরঞ্জার কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এসব মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ।

মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহারের ধারণা দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৪৯টি : ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র ৪৯টি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হবেছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান।

মাঠে ১৮ প্লাটুন বিজিবি :নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৮ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল দুপুর থেকে বিজিবির সদস্যদের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তারা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার দিকে সতর্ক নজর রাখছেন। মাঠে নামছে র‌্যাব ১৩: এ ব্যাপারে র‌্যাব ১৩ অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস বিকেলে প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সংম্মেলন করেন। তিনি জানান, ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবেই অনুষ্ঠিত হবে। র‌্যাবের ২০ ইউনিট ইতমধ্যে কাজ শুরু করেছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে র‌্যাব।

মাঠে নামছে পুলিশ ও আনসার সদস্য: অবাধে ভোটগ্রহণের জন্য মাঠে থাকবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনসার ও পুলিশের ৩ হাজার সদস্য। অন্যদিকে এই উপ-নির্বাচনে ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে ৪ জন। পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরে যেতে পারেন সে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সদর থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, রাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করবেন।

তাদের নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে গত সংসদ নির্বাচনের মত এবারও ১৭৫টি কেন্দ্রে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর জন্য ১৭৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ১০২৩ এবং ২০৪৬ জন পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১০২৩টি গোপন কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে।

রংপুর সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৩১০ এবং ২ লাখ ২০ হাজার ৭৬২ নারী ভোটার। সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে রংপুর-৩ সদর আসনে প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের সিদ্দিক হোসেন।

এরপর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের কাজী আব্দুল কাদের, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির শফিকুল গাণি স্বপন, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পাটির মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টিও চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০১ সালে জিএম কাদের, ২০০৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে রওশন এরশাদ, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এ আসনের।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভোটে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর ধানের শীষের প্রার্থী রিটা রহমান পান ৫৩ হাজারের ওপরে। গত ১৬ জুলাই রংপুরে সমাধিস্থ করা হয় এরশাদকে।

আপনার মতামত লিখুনঃ