অদৃশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে ইউজিসি

বেরোবি প্রতিনিধি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে তথাকথিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে অস্তিত্বহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য তালিকায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণিত বিভাগের এক শিক্ষকের নাম পাওয়া গেছে। সহকারী অধ্যাপক পদের ওই শিক্ষকের নাম মোঃ মশিউর রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক। বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে এমন বেআইনী কাজে জড়িত থাকায় বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে সমালোচনা চলছে। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে আইন অনুযায়ী এমন লাভজনক পদে তাঁর থাকার সুযোগ নেই এবং এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (উইজিসি)।

ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান গতকাল সোমবার বিকেলে বলেন, ইতোমধ্যে তথাকথিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে আইন অনুযায়ী কেউ এমন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারেন না, তার উপর এমন অবৈধ একটি প্রতিষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জড়িত থাকা অনৈতিক। এ বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে নীলফামারীর সৈয়দপুরের বাইপাস এলাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। অধ্যাপক ড. এ বি এম শরিফুজ্জামান শাহ উদ্যোক্তা হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠা করে নিজেই ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য জাতীয় সংসদের মহিলা সাংসদ রাবেয়া আলীমকে সভাপতি করে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। উক্ত ট্রাস্টি বোর্ডে ১২ সদস্যের মধ্যে রাজনৈতিক ও ব্যাবসায়ী ব্যক্তিবর্গের সাথে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমানকে চার নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি অদৃশ্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে তা সরকার ও ইউজিসির নজরে আসে এবং অবৈধ এই কর্মকান্ডের বিষয়ে সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। উক্ত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি হতে কখনোই অনুমোদন দেয়া হয় নি, এমনকি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও অনুমোদনের নিমিত্তে কোন প্রকল্প প্রস্তাবও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কমিশনে পাওয়া যায়নি। এদিকে অবৈধ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের তালিকায় নাম এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ বিভিন্ন ছবিতে মশিউর রহমানকে দেখা গেলেও এর সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। তিনি বলেন, এর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ছবিতে তাঁকে কেন দেখা যাচ্ছে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেন নি। যোগাযোগ করা হলে, ট্রাস্টি বোর্ডের অপর সদস্য সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমানসহ কয়েকজন রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে আছেন। এগুলো ছাড়াও গণিত বিভাগের এই শিক্ষক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৯ এর ৪৭(৪) ধারা ভঙ্গ করে নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হয়েছেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।